August 23, 2026, 4:49 am

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা: রফতানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা: রফতানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ইইউতে পোশাক রফতানি হয় প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের। চলতি বছরও প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো। চলতি অর্থবছরের সাত মাসেই ইউরোপে পোশাক রফতানি হয়েছে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের।

তা ছাড়া ইউরোপে পোশাক রফতানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। অথচ ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হামলার কারণে বৃহত্তম এই বাজারে পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য রফতানি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন দেশের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের রফতানি খাত।

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, এমনিতেই চলমান করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য চরম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিল্প খাত এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এই সঙ্কটের মধ্যে হাজির হলো আরেক সঙ্কট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের ওপরও পড়বে। কারণ ইউরোপে যেসব এলাকা দিয়ে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশ থেকে পণ্য যায় সেসব এলাকায় এখন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির মাত্রাটা বেশি হবে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, যদিও সবে মাত্র যুদ্ধ শুরু হলো, তবুও দুশ্চিন্তা তো বাড়ছেই। আসলে এখনও অনেক কিছু যদি-কিন্তুর ওপর নির্ভর করছে। যদি এ যুদ্ধ স্বল্প সময়ের হয় এবং পুরো ইউরোপ যদি এর সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে তাহলে পরিস্থিতি হবে এক রকম। আর যদি দীর্ঘস্থায়ী এবং পুরো ইউরোপ যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাহলে পরিস্থিতি হবে আরেক রকম। আবার যদি এ যুদ্ধে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো জড়িয়ে যায় তাহলে সে পরিস্থিতি হবে আরও জটিল। আসলে আমাদের এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

যদিও ইউক্রেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য খুব বেশি না, কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বেশ ভালো। তবে এ অঞ্চলের যে সমুদ্রপথ ধরে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যগুলো এতদিন রফতানি হচ্ছিল, সেসব এলাকাতেও ছড়িয়েছে যুদ্ধের উত্তেজনা। ফলে সেসব এলাকার চলমান রফতানি আদেশ এবং ভবিষ্যতের ক্রয়াদেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগে পড়ার কথা বলেছেন তৈরি পোশাক খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, ইউরোপ আমাদের পোশাক শিল্পের প্রধান বাজার। এ অঞ্চলে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব তো দেশের রফতানি খাতে পড়বেই। এই যুদ্ধ যে কেবল বাজার অস্থিতিশীল করছে, তা নয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাতে জাহাজ ভাড়া আরও বেড়ে যেতে পারে। এমনিতেই জাহাজ ভাড়া বাড়ায় আমদানি-রফতানি খাত ধুঁকছে। সুতরাং আমরা চায় যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাক, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসুক।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রচলিত বাজারের বাইরে নন ট্রেডিশনাল বাজার, যাকে নতুন বাজার হিসেবে অখ্যায়িত করেন উদ্যোক্তারা-তার মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। এ বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি প্রতিবছরই বাড়ছে। গত অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রথম সাত মাসে রাশিয়ায় তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছিল ৩০৩ মিলিয়ন ডলারের। অথচ চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাশিয়ায় পোশাক রফতানি হয়েছে ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এ বছর দেশটিতে পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি ৩৭ শতাংশ।

যুদ্ধের কারণে রাশিয়ায় পোশাক রফতানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের সঙ্গে আমাদের তেমন একটি বাণিজ্য নেই। তবে রাশিয়া আমাদের কাছে এখন আকর্ষণীয় বাজার। কারণ প্রতিবছর এ বাজারে পোশাক রফতানি বাড়ছে। তা ছাড়া দেশটির মানুষের মাঝে আমাদের তৈরি পোশাকের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। রাশিয়ায় আমাদের দেশ থেকে বেলারুশের হামবুর্গ বন্দর এবং ফিনল্যান্ডের কটকা বন্দর দিয়ে। যুদ্ধের কারণে এ দুটি বন্দর দিয়ে পণ্য আসা-যাওয়া বাধাগ্রস্ত হবে। তা ছাড়া আরেক সমস্যা হলো- যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এর কারণে। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের সরকারকে আগে থেকে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আছে।

আরেক ব্যবসায়ী ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, উজবেকিস্তান, ইউক্রেনসহ ওই অঞ্চলের অনেক দেশ থেকে তুলা আমদানি করা হয় বাংলাদেশে। যুদ্ধের কারণে তুলা আমদানি বাধাগ্রস্ত হবে। এমনিতেই সুতা ও তুলার দাম অনেক বেশি। যুদ্ধের কারণে এর দাম আরও বেড়ে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com